
বাংলা বই PDF | Bangla boi read...
Binod Roy
বিনামূল্যে বাংলা বই পিডিএফ পড়তে ও ডাউনলোড করতে Booksointer Application এবং bookspointer.com সাইট ব্যবহার করতে পারেন। এসব ওয়েবসাইট থেকে উপন্যাস, গল্প ও থ্রিলার, গান, কিশোর সাহিত্যসহ আরও অনেক কিছু সংগ্রহ করা যায় অথবা নিজেদের লেখা প্রকাশ করা যায়।
নিচের উপন্যাসগুলো পড়ার জন্য নামের উপর ক্লিক করুন।
মালঞ্চ
পিঠের দিকে বালিশগুলো উঁচু-করা। নীরজা আধ-শোওয়া পড়ে আছে রোগ শয্যায়। পায়ের উপরে সাদা রেশমের চাদর টানা, যেন তৃতীয়ার ফিকে জ্যোৎস্না হালকা মেঘের তলায়। ফ্যাকাশে তার শাঁখের মতো রঙ, ঢিলে হয়ে পড়েছে চুড়ি, রোগা হাতে নীল শিরার রেখা, ঘনপক্ষ্ম চোখের পল্লবে লেগেছে রোগের কালিমা।
মেঝে সাদা মারবেলে বাঁধানো, দেয়ালে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ছবি, ঘরে পালঙ্ক, একটি টিপাই, দুটি বেতের মোড়ার আর এক কোণে কাপড় ঝোলাবার আলনা ছাড়া অন্য কোনো আসবার নেই; এক কোণে পিতলের কলসীতে রজনীগন্ধার গুচ্ছ, তারই মৃদু গন্ধ বাঁধা পড়েছে ঘরের বন্ধ হাওয়ায়।
পুব দিকে জানলা খোলা। দেখা যায় নীচের বাগানে অর্কিডের ঘর,
কৃষ্ণকান্তের উইল
হরিদ্রাগ্রামে এক ঘর বড় জমীদার ছিলেন। জমীদার বাবুর নাম কৃষ্ণকান্ত রায়। কৃষ্ণকান্ত রায় বড় ধনী; তাঁহার জমীদারীর মুনাফা প্রায় দুই লক্ষ টাকা। এই বিষয়টা তাঁহার ও তাঁহার ভ্রাতা রামকান্ত রায়ের উপার্জিত। উভয় ভ্রাতা একত্রিত হইয়া ধনোপার্জন করেন। উভয় ভ্রাতার পরম সম্প্রীতি ছিল, একের মনে এমত সন্দেহ কস্মিন্ কালে জন্মে নাই যে, তিনি অপর কর্তৃক প্রবঞ্চিত হইবেন। জমীদারী সকলই জ্যেষ্ঠ কৃষ্ণকান্তের নামে ক্রীত হইয়াছিল। উভয়ে একান্নভুক্ত ছিলেন। রামকান্ত রায়ের একটি পুত্র জন্মিয়াছিল— তাহার নাম গোবিন্দলাল। পুত্রটি জন্মাবধি, রামকান্ত রায়ের মনে মনে সংকল্প হইল যে, উভয়ের উপার্জিত বিষয় একের নামে আছে, অতএব পুত্রের মঙ্গলার্থ তাহার বিহিত লেখাপড়া করাইয়া লওয়া কর্তব্য। কেন না, যদিও তাঁহার মনে নিশ্চিত ছিল যে, কৃষ্ণকান্ত কখনও প্রবঞ্চনা অথবা তাঁহার প্রতি অন্যায় আচরণ করার সম্ভাবনা নাই, তথাপি কৃষ্ণকান্তের পরলোকের পর তাঁহার
গণদেবতা
ভারতীয় সমাজের কেন্দ্ৰমূল যে গ্রাম্যজীবন সে জীবনের মহাকাব্য রচনায় তারাশঙ্করের কালজয়ী ক্ষমতা তাঁকে গণদেবতার মতো উপন্যাস লিখিয়েছে। ভারতের সর্বাধিক অর্থমূল্যের সাহিত্য পুরস্কার জ্ঞানপীঠ পুরস্কারের প্রবর্তনা বছরেই ১৯৬৬-তে এই গ্রন্থের জন্য তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়েছিল।
পঞ্চগ্রাম
এক আষাঢ় মাস। শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা পর্ব দ্বাদশ মাসে বিষ্ণুর দ্বাদশ যাত্রার মধ্যে আষাঢ়ে রথযাত্রা হিন্দুর সর্বজনীন উৎসব। পুরীতে জগন্নাথ-বিগ্রহের রথযাত্রাই ভারতবর্ষে প্রধান রথযাত্রা। সেখানেও আজ জগন্নাথ-বিগ্রহ জাতি-বৰ্ণ-নির্বিশেষে সকল মানুষের ঠাকুর অবশ্য এ জাতি-বৰ্ণ-নির্বিশেষত্ব কেবল হিন্দুধর্মাবলম্বীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ; হিন্দুদের সকলেই আজ রথের দড়ি স্পর্শ করিয়া জগন্নাথ-বিগ্রহের স্পৰ্শ-পুণ্যলাভের অধিকারী। জগন্নাথ-বিগ্রহ কাঙালের ঠাকুর।......।
আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাস
রাণাঘাটের রেল-বাজারে বেচু চক্কত্তির হোটেল যে রাণাঘাটের আদি ও অকৃত্রিম হিন্দু-হোটেল এ-কথা হোটেলের সামনে বড় বড় অক্ষরে লেখা না থাকিলেও অনেকেই জানে। কয়েক বছরের মধ্যে রাণাঘাট রেলবাজারের অসম্ভব রকমের উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেলটির অবস্থা ফিরিয়া যায়। আজ দশ বৎসরের মধ্যে হোটেলের পাকা বাড়ী হইয়াছে, চারজন রসুয়ে-বামুনে রান্না করিতে করিতে হিমশিম খাইয়া যায়
মাধুকরী
রেলিং-এ বসে বানজার নদীর যেদিকটা দেখা যাচ্ছে, সেদিকটাতেই কানহা টাইগার প্রিসার্ভ-এর কোর-এরীয়া। ভারী সুন্দর এই নদী বানজার।
আই-টি-ডি-সি’র মধ্যপ্রদেশের মুক্কি-লজ-এর একটু উপরে কতগুলো পাথরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়াতে সবসময়ই প্রপাতের মতো একটানা আওয়াজ হয় ঝরঝরানির। পেছন থেকে সেই আওয়াজ রোদ-পিছলানো জলের উপর নাচতে নাচতে দৌড়ে আসছে। সামনে, পুরনো ভেঙে পড়া কজওয়েটা। আগে
রাত ভরে বৃষ্টি
হয়ে গেছে-ওটা হয়ে গেছে—এখন আর কিছু বলার নেই। আমি, মালতী মুখোপাধ্যায়, একজনের স্ত্রী আর একজনের মা, আমি ওটা করেছি। করেছি জয়ন্তর সঙ্গে, জয়ন্ত আমাকে চেয়েছে, আমিও তাকে। নয়নাংশু হয়ত ভাবছে আগেই করেছিলুম, কিন্তু না—আজই প্রথম। আজ রাত্রে
পদ্মাবতী
রাজা। (চতুর্দ্দিক্ অবলোকন করিয়া স্বগত) হরিণটা দেখ্তে দেখ্তে কোন্ দিকে গেল হে? কি আশ্চর্য্য! আমি কি নিদ্রায় আবৃত হয়ে স্বপ্ন দেখ্ছি? আর তাই বা কেমন করে বলি। এই ত ভগবান্ বিন্ধ্যাচল অচল হয়ে আমার সম্মুখে রয়েছেন। (চিন্তা করিয়া) এই পর্ব্বতময় প্রদেশে রথের গতির রোধ হয় বল্যে, আমি পদব্রজে হরিণটার অনুসরণ ক্লেশ স্বীকার কর্যে অবশেষে কি আমার এই ফল লাভ হলো যে আমি একলা একটা
জন্তু
প্রথমেই বলি, যে হাড়-হিম-করা কাহিনি আপনাদের শোনাতে বসেছি, তা গল্পকথা নয়, নির্ভেজাল সত্য ঘটনা। সত্যঘটনাকে কাহিনি আকারে পরিবেশন করতে বসলে লেখককে সাধারণত যে কল্পনার আশ্রয় নিতে হয়, ঘটনাপঞ্জির ভাঁজে ভাঁজে জুড়ে দিতে হয় রোমাঞ্চ, কাল্পনিক কথোপকথন, সেই সুযোগ আমি এখানে সামান্যই পেয়েছি। তার কারণ ইংরেজির সেই আদি ও অকৃত্রিম প্রবাদ। Truth is stranger than fiction.
এই হৃদয়বিদারক কাহিনির তীব্রতা এতটাই বেশি, আঘাত এতটাই ভয়ানক, নিষ্ঠুরতার প্রাবল্য এতটাই অবিশ্বাস্য, যে লেখক হিসেবে এখানে আমার খুব বেশি কিছু করার ছিল না। এই গল্প পড়তে পড়তে আপনি শিহরিত হয়ে উঠবেন, পাশবিকতায়
আদিম আতঙ্ক
চিৎকারটা ভেসে এল অনেক দূর থেকে।
ভয়ের চিৎকার। নিঃসীম আতঙ্ক ঠিকরে এল গলা চিরে। কিন্তু ওই একবারই। আর না। একবার চেঁচিয়েই বুঝি দম ফুরিয়ে গেল মেয়েটার। অথবা থেমে গেল কলজে।
ম্যাগাজিনের পাতা থেকে চোখ সরে এসেছিল সুমন্তর। সুমন্ত সেন। হাজত দারোগা। ছোট মাপের অফিসার। বয়েসেও ছোট। মাত্র আটাশ বছর। মনটা তাই এখনও গল্পের জগতে ভেসে যেতে ভালোবাসে।
পড়ছিল একটা গা-ছমছমে গল্প। উদ্ভট। অবৈজ্ঞানিক। হোক। গায়ের লোম তো খাড়া হচ্ছিল।
ঠিক ওই সময়ে সৃষ্টিছাড়া ওই চিৎকার। নৈঃশব্দ্য খানখান করা
সাহিত্য প্রেমীদের জন্য উল্লেখযোগ্য লেখা লিখে bookspointer প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করুন।